ইৎজাক রবিনের স্মরণে: জীবন, হত্যাকাণ্ড ও শান্তিপ্রক্রিয়া

ইৎজাক রবিনের স্মরণে: জীবন, হত্যাকাণ্ড ও শান্তিপ্রক্রিয়া

১৯৯৫ সালের ৪ নভেম্বর তেল আবিবে শান্তি সমাবেশের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইৎজাক রবিনকে হত্যা করা হয়। হত্যাকারী ইগাল আমির ছিলেন শান্তিপ্রক্রিয়ার বিরোধী এক ইসরায়েলি ইহুদি উগ্রপন্থী। রবিনকে স্মরণ করা মানে একটি জীবনের জন্য শোক এবং গণতান্ত্রিক বিতর্কের বদলে রাজনৈতিক হত্যাকে প্রত্যাখ্যান করা।

তাঁর জীবনকে একটি করমর্দন বা একটি রাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি সামরিক নেতা, কূটনীতিক ও রাজনীতিক ছিলেন; তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে ঐতিহাসিক আলোচনা চলতে পারে। দায়িত্বশীল স্মরণে সমালোচনার জায়গা থাকে, কিন্তু মতভেদ সহিংসতার অজুহাত নয়। সম্মান জানাতে জটিল জীবনকে নিখুঁত কিংবদন্তি বানাতে হয় না।

১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি ইসরায়েলি–ফিলিস্তিনি আলোচনা এবং অন্তর্বর্তী স্বশাসনের কাঠামো তৈরি করে। এটি চূড়ান্ত শান্তি সমাধান ছিল না। জেরুসালেম, শরণার্থী, বসতি ও সীমান্তের মতো বিষয় পরবর্তী আলোচনার জন্য রাখা হয়। এই পার্থক্য প্রক্রিয়াটির আশা এবং নকশা ও বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্ক বুঝতে সাহায্য করে।

রবিন, শিমন পেরেস ও ইয়াসির আরাফাত যৌথভাবে ১৯৯৪ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। একই বছর ইসরায়েল ও জর্ডান শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করে। এগুলো পৃথক কূটনৈতিক পথ, একই চুক্তি নয়। নিরাপত্তা, স্বীকৃতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার সিদ্ধান্ত দরকার হয়েছিল; অবিশ্বাস রাতারাতি দূর হয়নি।

হত্যাকাণ্ড জনজীবনে গভীর আঘাত আনে, কিন্তু রবিন বেঁচে থাকলে ঠিক কী হতো ইতিহাস তা প্রমাণ করতে পারে না। শান্তি নিশ্চিত ছিল বলা যেমন সরলীকরণ, আলোচনা মূল্যহীন ছিল বলাও তেমন। প্রতিষ্ঠান, নেতৃত্ব, জবাবদিহি এবং ভয় ও সহিংসতার মধ্যেও সংলাপ বজায় রাখার ক্ষমতা নিয়ে ভাবা বেশি কার্যকর।

এই স্মরণলেখা তাঁর প্রতিটি নীতির সঙ্গে একমত হওয়ার দাবি করে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও মানুষ, এবং নাগরিকদের ভয় বা হত্যার হুমকি ছাড়া ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ক করতে পারা উচিত। মূল চুক্তি, ভাষণ ও ঐতিহাসিক গবেষণা পড়া দায়িত্বশীল স্মৃতিচর্চার উপায়। নিচের সূত্রগুলো নথি ও প্রেক্ষাপট দেয়।

সূত্র ও আরও তথ্য